আমরা কেনো ব্লগিং সম্পর্কে জানবো?

আমরা কেনো ব্লগিং সম্পর্কে জানবো?

ব্লগিং – সাধারণ অর্থে নিজের ওয়েব পেজে ইউনিক ও মানসম্মত আর্টিকেল লিখে শেয়ার করা। কথাটা বেশ দারুণ কিছু মনে না হলেও ব্লগিং কিন্তু একটি স্বাধীন পেশার ক্যাটাগরিতে পরে।

আমরা অনেকেই কীভাবে লেখালেখি করে আয় করা সম্ভব এ নিয়ে অনেক রকম উপায় খুজি ও জানি। তবে ব্লগারদের লেখালেখি করে ইনকাম করার ধরন টা কিন্তু একদমই ভীন্ন। 

কীভাবে ব্লগিং অন্যান্য লেখালেখির পেশার চেয়ে ভীন্ন এবং একটি স্বাধীন পেশা তা এই আর্টিকেলটি সম্পুর্ন পড়লে জানতে পারবেন।

কীভাবে ব্লগিং অন্যান্য পেশার চেয়ে ভীন্ন?

একজন ব্লগার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা অনেকটাই সহজ। এখানে আপনার দক্ষতার উপর আপনার ক্যারিয়ার বিল্ড-আপ করতে হয়। সুতরাং, আপনার ভালো দক্ষতা থাকলে অনায়াসেই নিজেকে একজন প্রফেশনাল হিসেবে তৈরি করতে পারবেন। তবে একজন দক্ষ ব্লগার হিসেবে গড়ে উঠতে হলে অবশ্য প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য ও পরিশ্রমের। 

যেখানে অন্যান্য পেশায় দক্ষতার সাথে প্রয়োজন সার্বজনীন জ্ঞান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার বাহ্যিক জ্ঞান এরও প্রয়োজন হয়। সেখানে, ব্লগিং ফিল্ড আপনার প্রয়োজন রিসার্চিং, ম্যানেজিং, ক্রিয়েটিভিটি, টপিক অধ্যায়ন, রাইটিং স্কিল ইত্যাদির মতন ব্যাসিক স্কিলস।

এখানে কাজের দক্ষতা ও কাজের প্রতি আপনার ডেডিকেশন-ই হলো আপনার মুল হাতিয়ার। তাছাড়া, একজন ব্লগার কিন্তু কারও জন্যে কীংবা কারোও আন্ডার কাজ করে থাকে না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে Individually কাজ করেন বলেই তাকে মালিক কীংবা Boss ধরা হয়।

মুল কথায়, ব্লগিং একজন ব্যাক্তি কীংবা ততোধিক ব্যাক্তির সমন্বয় গঠিত, পরিচালিত ও কার্যক্রম সম্পাদিত করা হয়। সুতরাং, এখানে মুনাফা একজন ব্যাক্তি হতে শুরু করে ততোধিক ব্যাক্তির মাঝে বন্টিত হতে পারে।

তবে শেয়ার ব্যবসায় কীংবা একমালিকানা ব্যবসায় হতে ব্লগিং সম্পুর্ন আলাদা।

একজন ব্লগার এর মুল কাজ কী?

একজন ব্লগারের মুল কাজ হলোঃ

  • ওয়েব পেজ / ব্লগ তৈরি করা।
  • ম্যানেজ করা।
  • কন্টেন্ট / আর্টিকেল তৈরি করা / করিয়ে নেওয়া।
  • পাবলিশ করা।

একটি ওয়েবপেজ / ব্লগ তৈরি করে নেওয়া আজকাল অনেক সহজ একটা বিষয়। যে কেউই নিজের মন পছন্দের একটি ওয়েব পেজ তৈরি করে নিতে পারবে অনায়াসে। আবার এমনো কিছু প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে নিজের জন্য বিনামূল্যে একটি ওয়েবপেজ তৈরি করে তা গুগল এবং বিং এর মতন সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে পাবলিশ করতে পারবেন।

তবে একজন ব্লগারের কাজ কিন্তু এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্লগ ম্যানেজমেন্ট থেকে শিরু করে কন্টেন্ট পাবলিশিং পর্যন্ত অনেকে কাজের উপর ভালো দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

সুতরাং, বলা যায় যে ব্লগিং রিলেটেড সকল কাজই হচ্ছে একজন ব্লগারের মুল কাজ।

ব্লগিং আমাদের কি শিখায়?

অনেকেই ভাবতে পারেন যে ব্লগিং করলে আমাদের স্কিলস এর পাশাপাশি কি কোনো বাহ্যিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা ডেভেলপ হয়? একজন ব্লগার কিন্তু ব্লগিং করে তার জীবনে নানা তথ্য ও জ্ঞানের সাথে পরিচিত হয়।

এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কী কী হতে পারে তা ডিপেন্ড করে কীভাবে আপনি কাজ করছেন এবং কোন টপিক নিয়ে আপনি কাজ করছেন।

বেশিরভাগই বিগিনাররা ব্লগিং থেকে ধৈর্যশীল হওয়া শিখে থাকেন। তবে এর বাহিরেও আরও অনেক স্কিল আপনার মাঝে ডেভলপ হয়। এগুলো থেকে আপনি সম্পুর্নই অজানা থেকে যেতে পারেন।

মার্কেটিং

একজন ব্লগারের সম্পুর্ন ইনকাম ব্যবস্থা ডিপেন্ড করে ভিওয়ার্স এর উপর। ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে ভিওয়ার্স টার্গেট ও তাদের সংখ্যা ইম্প্রুভ করার জন্য অনেক সময় ডিজিটাল প্রচারণা বিভিন্ন পন্থা – পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

আমরা সকলেই জানি যে প্রতিটি ব্যবসার ভালো ফলাফল ভালো মার্কেটিং এর উপর ডিপেন্ডেবল।

এভাবে একজন ব্লগার প্রচারণার বিভিন্ন পন্থা – পদ্ধতি অবলম্বন করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাসিক স্কিলস গুলো সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা তৈরি করে ফেলে।

তবে মার্কেটিং এর জ্ঞান-টা একজম ব্লগার-এর নিজ কঠোর রিসার্চ ও অন্যান্য মুল কাজগুলো করার ডেডিকেশন এর উপর নির্ভরশীল।

নতুন তথ্য আবৃষ্কার করার আগ্রহ

একজন ব্লগারকে কোনো এক নির্দিষ্ট টপিক এর উপর সম্পুর্ন জ্ঞান অর্জন করতে হয়। তবে তার এই জ্ঞান কতটা প্রসারিত তা সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিনিয়তই তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও তার সাথে রিলেটেড বিভিন্ন রকমের উত্তর তৈরি ও আবৃষ্কার করতে হয়। এটাই একজম ব্লগারের কাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুল অংশ।

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টপিক নিয়ে রিসার্চ করতে করতে একজন ব্লগারের মাঝে আরও তথ্য আবৃষ্কার করার একটি প্ররোচনা সৃষ্টি হয়।

যদিও অনেকের ক্ষেত্রে আবার এমনটা নাও হতে পারে। সকলের মাঝে একই ধরনের প্ররোচনা তৈরি হবে তা নির্দিষ্ট নয়।

গুগল, স্যোশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদির সাথে নতুন করে পরিচয় হয়

যারা গুগল শুধু সার্চ এর জন্যে এবং স্যোশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল মনোরঞ্জনের জন্যে ব্যবহার করে থাকেন তারা এর সাথে সম্পুর্নভাবে পরিচিত হতে পারেন না।

একজন ব্লগারের কাছে গুগল শুধু একটি সার্চিং এর মাধ্যম নয়, আর স্যোশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল মনোরঞ্জন এর জন্য নয়। আমাদের কাছে এগুলো হলো ইনকামের একটি মাধ্যম। তাই আমাদের এগুলোর সাথে নতুন করে পরচিত হতে হয়।

ব্লগিং-কে কি ফ্রীল্যান্সিং এর সাথে তুলনা করা যায়?

অনেকেই মনে করেন যে ব্লগিং করা আর ফ্রীল্যান্সিং করা এক। এমন টা মোটেও সত্য নয়। ফ্রীল্যান্সিং হলো দেশে বসে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাজ করে দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। যেখানে ব্লগিং করে আপনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন কিন্তু তার জন্য আপনাকে কারও কাজ করে দিতে হবে না।

কেনো বাংলাদেশে ব্লগারদের প্রচলন টা অনেক জরুরি?

বর্তমানে বেশিরভাগ বাংলা ব্লগ গুলো ইন্ডিয়ান। দেশীয় ব্লগ বলতে হাতে গুনে কয়েক্টাই সফল ব্লগ পাওয়া যাবে। এর ফলে গুগলে বেশিরভাগ বাংলা তথ্যগুলো তাই পাওয়া যাবে যা ইন্ডিয়ান ব্লগ গুলোতে পাবলিশ হবে।

তাছাড়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের চুড়ান্ত পর্যায় নিয়ে যেতে হলে আমাদের কে ডিজিটাল উপায়গুলোর ব্যবহার আরও প্রচলিত করে তোলতে হবে।

এছাড়াও, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে যেমন প্রবাসীদের ভুমিকা অনেক, তেমন একজন ব্লগারও পারে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে। 

পরিশেষে — 

ব্লগিং শুধু একটি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ নই বরং এটি একটি সুবর্ন সুযোগ ডিজিটালাইজেশন এর দিক এগিয়ে যাওয়ার। আমাদের দেশের মানুষদের ডিজিটাল সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ প্রয়োজন। তাই আমি মনে করি দেশে ব্লগারদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে হবে। এভাবে দেশের মানুষদের ডিজিটালি অনেক কিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব এবং বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা ও আলোচনা করা সম্ভব হবে।

তবে এর জন্য অবশ্য আমাদের ব্লগিং কি, কীভাবে প্রফেশনাল ব্লগার হওয়া যায়, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। এভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিভিন্ন মাধ্যমের সাথে পরিচিত হয়েই প্রকৃত অর্থে আমরা আমাদের দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.