ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার ৩-টি কার্যকরী টিপস?

ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার ৩-টি কার্যকরী টিপস?

ফাইভার তো অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। এমন অনেকেই আছে জারা ফাইভার থেকে টুকিটাকি আয় করে থাকে। আবার এমনও কিছু ফ্রীল্যান্সার আছেন যারা মাসে লাখ টাকার ইনকাম করে থাকে। তবে বিগিনারদের জন্য ফাইভার হলো একটা রণক্ষেত্র। একজন বিগিনারকে ফাইভারে হাজারো প্রফেশনাল ফ্রীল্যান্সারদের কে পিছিয়ে নিজের গিগকে আগে আনতে হয়। এমন কাজ করাটা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। প্রয়োজন অনেক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর কিছু ইনভেস্টমেন্ট। কিসের ইনভেস্টমেন্ট? ফাইভার তো ফ্রী!

এমন ধারণা ভুল। ফাইভার প্ল্যাটফর্ম ফ্রী হলেও এখানে কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে অভিজ্ঞতার প্রদর্শন করতে হবে। এর জন্য আপনাকে সরাসরি ইনভেস্ট না করে বরং অন্যান্য অংশে ইনভেস্ট করতে হয়, উদাহরণস্বরুপঃ আপনার কাছে ফাইভারে একটি প্রফেশনাল গিগ তৈরি করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তাই আপনি কোনো প্রফেশনালকে দিয়ে নিজের জন্য একটা সুন্দর গিগ তৈরি করিয়ে নিলেন।

এরকম বাড়তি কাজগুলোয় আপনার প্রফেশনালিজম না দেখালে আপনি কখনো ফাইভারে কাজ পাবেন না। আর এই ধাপগুলো অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়ায় আপনার জন্য লসের কিছু নেই। তবে আপনি যদি নিজেই গিগ তৈরি করে নিতে চান তাহলে অবশ্য আপনাকে অনেক দক্ষতার প্রদর্শন করতে হবে। 

অনেকেই আছেন যারা তাড়াহুড়ো করে গিগ তৈরি করে পাবলিশ করেন। তবে পরবর্তীতে দেখা যায় যে কোনো প্রকার এনগেজমেন্ট ও ক্লিক আসে না। এতে করে আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে আপনার তৈরি করা গিগ ফাইভারে র‍্যাংক করছে না।

ফাইভারে গিগ র‍্যাংক না করার কিছু কারণঃ

  1.  সঠিক ইনফরমেশন না থাকা।
  2.  সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করা।
  3.  ইমেজ ব্যবহার না করার জন্য।
  4.  ভিডিও ব্যবহার না করার কারণে।
  5.  সঠিক ট্যাগ ব্যবহার না করার কারণে। 
  6.  সঠিক ক্যাটাগরি সিলেক্ট না করার কারণসহ আরও কিছু কারণ রয়েছে। 

ফাইভারে কাজ পাওয়ার ধরন অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা। এখানে আপনাকে নিজের ট্যালেন্ট ও স্কিলগুলোকে যতটা সম্ভব প্রদর্শন করতে হবে, তবেই ক্লায়েন্টরা আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহী হবে। এছাড়াও, আপনার গিগ যতটা অপ্টিমাইজড থাকবে, ফাইভারে ততটা উপরে র‍্যাংক করবে। সঠিক কাজ জানা থাকলে বিগিনার হিসেবে আপনাকে বেশি পরিশ্রম করতে হবে না।

ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার টিপ্স

বর্তমান সময়ে ফাইভারে নতুন ফ্রীল্যান্সারদের আইডি অধিক হওয়ায় ফাইভারের গিগ র‍্যাংকিং অ্যালগরিদমে অনেক চ্যাঞ্জ আনা হয়েছে। এখন আর আগের মতো সহজে  গিগ র‍্যাংক করিয়ে কাজ পাওয়া যায় না। তবে আপনি সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে বর্তমান সময়ের সাথে মানিয়ে ফাইভাএ গিগ পাবলিশ করলে তা ফাইভারে অবশ্য বেশি বায়ারদের নিকট পৌছাবে।

তবে ফাইভারে কীভাবে দ্রুত কাজ পাবেন তার আগে জেনে নিন বায়ার কারা

বায়ারস

ফাইভারে যারা আপনার অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল কাজ করার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করবে তারাই মুলত ফাইভারে বায়ার আইডি ব্যবহার করেন। এখন প্রশ্ন হলো আপনাকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করালে তাদের কী লাভ হবে। মুলত আপনি যে কাজটি করবেন তা থেকেই তারা নিজেদের লাভ আসুল করে নিবেন। অর্থাৎ আপনার সেবাকেই তারা নিজেদের লাভে পরিনত করবে। সুতরাং, আপনার কজ মানসম্মত হতে হবে। তবেই আপনাকে একজন বায়ার পরবর্তীতে আবারও প্রজেক্ট করার জন্য দিবে। কাজ মানসম্মত হলে অনেকে আপনাকে লং-টার্ম কাজের জন্যেও হায়ার করতে পারে।

ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার ৩ টি টিপ্স

অনেকের কাছে ফাইভার এ্যাকাউন্ট খোলা মানেই কাজ পাওয়া। বিগিনারদের এরকম ধারণা না রাখাই উত্তম। কেননা, এমনও ফ্রীল্যান্সার রয়েছে যাদের অপেক্ষার সীমা মাসের উপর হয়েছে, তবে  এখনো অপেক্ষা করছেন কেবল মাত্র একটি প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য। অঅন্যদিকে এমনো আইডি রয়েছে যাদের কাজের কোনো শেষ নেই। তাই প্রথমত খোলা চোখে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন এবং নিজেকে আয়বিহীন পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত করুন।

ফাইভারে দ্রুত কাজ পাওয়ার টিপস

গিগ তৈরি করা

শুরু শুরুতে সুন্দর এবং অপ্টিমাইজড গিগ তৈরি করায় লক্ষ রাখেন না অনেকেই। একটি সম্পুর্ন অপ্টিমাইজড গিগ পারে আপনার এ্যাকাউন্টকে টপ র‍্যাংকিং-এ আনতে। আর টপ র‍্যাংকিংয়ে আপনার এ্যাকাউন্ট ডিসপ্লেয় করলে আপনার যে কী কী উপকার হবে আশা করি তা উল্লেখ করার প্রয়োজন হবে না।

একটি অপ্টিমাইজড গিগ তৈরি করতে আপনার ব্যবহার করতে হবেঃ

  • কপিরাইট ফ্রি ইমেজ 
  • কপিরাইট ফ্রি ভিডিও 
  • কাজের সঠিক বিশ্লেষণ
  • আপনার কাজের অভিজ্ঞতা 
  • পোর্টফলিও 
  • সঠিক টাইটেল, ক্যাটাগরি ও ট্যাগ
  • কাজের মান অনুযায়ী প্রাইস রেট, ইত্যাদি।

অনেকের জাছে এগুলো অনেক ঝামেলা মনে গতে পারে। তবে ঝামেলা হলেও ফাইভারে অপ্টিমাইজড গিগ মানে এগুলোকেই বোঝায়। কিছু বিগিনার আছে যারা গুগল থেকে ডাউনলোড করে ইমেজ ও ভিডিও এড করে গিগ পাবলিশ করে। এমনটা করা সম্পুর্ন ফাইভারের পলিসির বিরুদ্ধে।

শেয়ার করা

গিগ লাইভ হওয়ার পর আপনি শেয়ার গিগ এর অপশন দেখতে পাবেন। মুলত আপনাকে আপনার গিগ বিভিন্ন সোশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোয় শেয়ার করার জন্য বলা হচ্ছে। সোশিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলর মধ্যে ফাইভার গিফ শেয়ার করার সবচেয়ে উপযোগী প্ল্যাটফর্মটি হলো ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি অনেক বায়ারদের সাথে কানেক্ট হতে পারবেন। তবে আপনার আইডিতে শেয়ার করলেই যে আপনি বায়ারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন তেমন না। আপনাকে বিভিন্ন ফাইভার ডেডিকেটেড গ্রুপগুলোয় যুক্ত হতে হবে।

ফাইভারে যারা কাজ খোজের অথবা ফাইভারে কাজ করা ফ্রীল্যান্সাররা নতুন ফ্রীল্যান্সারদের অথবা এক্টিভ ফ্রীল্যান্সারদের সাপোর্ট করার জন্য গ্রুপ চালায় যাখানে আপনি অন্যান্য ফ্রীল্যান্সার এবং আউটসোর্সারদের সাথে কানেক্ট হতে পারবেন। এসকল গ্রুপে জয়েন হয়ে আপনাকে গ্রুপে আপনার কাজের ধরন এবং অভিজ্ঞতার সাথে আপনার ফাইভার গিগ পোস্ট করতে হবে। তাহলে আপনার জন্য কাজ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে পরবে।

ফেসবুক বাদেও আরও একটি সোশিয়াল প্ল্যাটফর্ম রঅয়েছে যেখানে আপনি বায়ার্স খুজে পাবেন। এই প্ল্যাটফর্মটি হলো ওয়াটসআ্যাপ। এখানে অনেক বায়ার্সরা সেলারদের সাথে কানেক্ট হয়ে থাকে। আপনি বিভিন্ন ফ্রীল্যান্সিং ওয়াটসআ্যাপ গ্রুপে জয়েন করে আপনার ফাইভার গিগ শেয়ার করে বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে

এটা আউট টপিক মনে হলেও বাস্তবে আপনি ইউটিউব থেকে ফাইভারে অনেক বড়ো বড়ো প্রজেক্ট করস্র জন্য পেয়ে যাবেন। এর জন্য অবশ্য আপনাকে ভালো একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটার হতে হবে। আপনি ফাইভারে যেই সার্ভিস দিবেন তার রিলেটিভ ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে পাব্লিশ করবেন।

ইউটিউবে ইউনিক কন্টেন্ট খুব তাড়াতাড়ি অনেক ইউজারসদের নিক্ট পৌছায়। আপনি যে সার্ভিস দিবে তার রিলেটেড কোনো সমস্যার সমাধানের উপর ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে পাব্লিশ করতে পারেন। ভিডিওতে অবশ্য আপনি ফাইভারে কী সার্ভিস দেন এবং আপনার কাজের মানসম্মত ও অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে হবে।

এভাবে আপনি দ্রুত বায়ারের সাথে কানেক্ট হয়ে কাজ পেয়ে যাবেন। তবে অবশ্য আপনার ভিডিওতে কপিরাইট ফ্রি  এলিমেন্ট ব্যবহার কররে হবে এবং ভিডিও যাতে বেশি ইউজারসদের নিকট পৌছায় তার জন্য ইউটিউব এসইও করতে হবে। ইউটিউব এসইও সম্পর্কে না হয় অন্য কোনো আর্টিকেলে সম্পুর্ন আলোচনা করা হবে।

শেষ কথাঃ

এভাবে আপনি ফাইভারে কাজ পাওয়ার পাশাপাশি ইউটিউবেও কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে অবশ্য মনে রাখতে হবে, পরিশ্রমের সাথে ধৈর্য ধরে প্রতিটি কাজ নিখুঁত ভাবে করতে হবে যেনো তা মানসম্মত হয়। তবেই আপনি দ্রুত কোনো প্রজেক্ট-এর উপর কাজ পাবেন। অন্যথায়, কাজ ছাড়া মাসের পর মাস ফাইভারে শুধু গিগই পাব্লিশ করবেন তবে কোনো ফলাফল আর পাবেন না। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.