কেনো দেশে নয়, বিদেশে যেতে হয় কাজের জন্য!

কেনো দেশে নয়, বিদেশে যেতে হয় কাজের জন্য!

বাংলাদেশে দিন দিন কমছে কর্মসংস্থান, বৃদ্ধি পাচ্ছে বেকারের হার। কেনো আমাদের দেশে কমে যাচ্ছে কর্মীর চাহিদা? কেনই বা বিদেশে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে দেশের যুবকদের?

ইদানীং লক্ষ করলাম যে আমাদের দেশের কর্মীর চাহিদা অনুযায়ী লোক নেওয়া হচ্ছে না। গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলো থেকে রিক্রুটমেন্ট নটিস আসলেও চাকরি হচ্ছে না অনেকেরই। এই সমস্যাটা লকডাউনের পর থেকেই লক্ষ করলাম। 

এখন আর আগের মতন দেশীয় কাজ পাওয়া হচ্ছে না দেশের যুবকদের। তাই অনেকের নিজ-উদ্যেগে শুরু করছেন একমালিকানা ব্যবসায়। আর অনেকেই পারি দিচ্ছেন বিদেশে কাজের উদ্দ্যেশ নিয়ে। এটা অনের কাছে ভালো মনে হলেও তা আসলে  আমাদের জন্য কতটা সমস্যা আমাদের সামনে নিয়ে আসছে তা কি আপনি জানেন? 

একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে, আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন টপিক নিয়ে রিসার্চ করতে হয়। যার ফলস্বরূপ আমার নিকট এমন সব তথ্যও চলে আসে যা সাধারণ লোকজন থেকে লুকিয়ে রাখাই ভালো। তবে এগুলো বিবেচনা না করে আজ দেশের কর্ম অবস্থা সম্পর্কে আপনাদের অবগত করিয়ে দিবো।

আমাদের দেশের  আর্থিক অস্বচ্ছতা মুলত বেকার জনগণের কারণেই। অনেকেই ভেবে থাকেন যে দেশের মধ্যে জিনিসপত্রের হুট করে দাম কমে-বাড়ার কারণে আর্থিক অস্বচ্ছতা তৈর হয়। তবে এই বিষয়টি সম্পুর্ন নয়। একটু ভাবুন তো; দেশে পণ্য আছে, পণ্যের নির্ধারিত মান দেওয়া আছে, কনজিউমার আছে তবে সেই পণ্য কিনার মতন সামর্থ গ্রাহকের নেই। 

বুঝতে পারতাছেন — সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের অর্থ যোগান দেওয়ার মাধ্যমে এবং সেই অর্থ খরচ না করতে পারার অসামর্থ্য।

শিক্ষিত এবং দক্ষ বেকারদের জন্য দেশে নেই কাজ

দেশে সাধারণ জনগণের যেই কাজ-এর উপর দক্ষ  তারা সেই কাজ করার জন্য সুযোগ পায় না। এতে করে,  অনেকের নিজের কর্মসংস্থানে আনতে হচ্ছে নানান পরিবর্তন। কেউ আনার নিজের অর্থ যোগান দেওয়ার পেশাই করছে পরিবর্তন। তবে কয়েক বছর ধরেই জনগণের বিদেশ যাওয়াটা অনেক বেড়ে গেছে।

কেনো বিদেশে কাজ পাওয়া যায় কিন্তু দেশে পাওয়া যায় না?

সরকারি তথ্য প্রকাশ করে যে মোট ১৭২ টি দেডে কাজের জন্য পারি জমায় বাংলাদেশীরা। এতে বোঝা যায় যে দেশে পড়ালেখার সুযোগ থাকলেও নেই শিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন। এমনটা প্রায় পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতেও দেখা যায়। তবে মধ্যযুগে এমনটা মিড-ইস্ট দেশগুলোতেও দেখা যেতো। বর্তমানে সৌদি আরব, দুবাই, ওমান, কাতার এর মতন দেশগুলোতে তারা তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন ও মান দুটোতেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই দেশগুলোতে জনগণদের নিজ ব্যবসায় শুরু করার সুযোগ তো আছেই পাশাপাশি বিদেশ থেকে লেবার নিয়োগ দেওয়াতেও ভালো জোর দেওয়া হচ্ছে।

আপনি ভাববেন যে তাদের কাছে তেলের খনি থাকায় তারা এগুলো করতে পারছে। তবে আপনার এমন চিন্তাধারাই পরিবর্তন করার জন্য আমার এই আর্টিকেল। তেলের খনি থাকলেই একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে না। অবশ্য জনসম্পদ কে কাজে লাগাতে হয়। আর এই নীতির অনুসরণ করেই মুলত মিডেল ইস্ট দেশগুলো এগুচ্ছে।

আমাদের দেশে কিন্তু এমন না। আমাদের দেশে জনসম্পদ আছে তবে তা ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। দেশে শিল্পকারখানা রয়েছে তবে সেখানে কাজের পরিমাণের সাথে বেতনের কোনো মিল নেই। মুল অর্থে, সুযোগ অনেক কিন্তু উপার্জন সামান্য। 

দেশের বাড়তি দাম আর চাহিদার দিক বিবেচনা করলে বিদেশে গিয়ে চাকরি করাটাই শ্রেয় হয়ে উঠেছে।

যদি এমন হতো যে মানসম্মত কাজের জন্য  দক্ষ এবং শিক্ষিত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো তাহলে পড়ালেখা শেষ করে আর কারো বেকার বসে থাকতে হতো না।

আমাদের দেশের অনেক বড়ো একটা দুর্বল দিক হলো এখানে রেফারেন্স-এ কাজ পাওয়া যায়। অর্থাৎ আপনার শিক্ষা এবং দক্ষতার থেকে বেশি কারও রেফারেন্স অনেক দামি।

তাই তো দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রেই আত্নীয় স্বজনরা সুযোগ পাচ্ছে তবে যারা নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল তাদের খালি বসে থাকতে হচ্ছে। এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ি সমস্যা হওয়ায় এর কোনো এককালীন  সমাধান নেই।

একমালিকানা ব্যবসায়  কী বেকারদের একমাত্র হাতিয়ার? 

এটাতো আমরা সবাই জানি যে একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। তবে আপনি কি জানেন যে বাংলাদেশের মতন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন এ দেশের জনগণেরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে।

মুল কথায়, সরকারের কাছে কী পরিমাণ রাজস্ব আছে তার উপর দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয় না। এটি সম্পুর্ন আপনার নিজের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।  পণ্য সামগ্রীর দাম কমিয়ে দিলে তা দেশের স্বাভাবিক অবকাঠামোর উন্নয়ন করবে না। 

একজন ব্যাক্তিকে তখনই আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী বলে  ধরা হবে যখন সে নিজের আয় থেকে প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারে। আর একমালিকানা ব্যবসায়র ধারা একজন ব্যাক্তির মধ্যে একজন মালিক হয়ে উঠার দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটায়।

 বর্তমানে আমাদের দেশে বেকারত্বের হার যতটুকু হওয়া দরকার তার চেয়ে অধিক। এর ফলে দেশের মধ্যে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়।

কাজ না পেয়ে বেকার থাকার চেয়ে নিজ দায়িত্বে নিজেকে আত্নকেন্দ্রীক করে নিজের কর্মসংস্থান নিজেই গড়ুন। এতে আপনার আর্থিক অস্বচ্ছতা হ্রাস পাবে। আপনি অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্যবান হবে। এর উর্ধ্বে, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতেও হবে না।

কীভাবে নিজেই ব্যবসায়ী হয়ে উঠবেন?  সংক্ষেপেঃ

বাংলাদেশে  আপনার ব্যবসায় গঠন করার জন্য  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। 

সবধরনের ব্যবসার জন্যই আমাদের দেশে ঋণের সুবিধা রয়েছে। আর ঋণের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দই হলো বাংলাদেশ  বাণিজ্যিক ব্যাংক।

 অনেক সরকারি – বেসরকারি  ব্যাংক থেকে লোন দেওয়া হচ্ছে ছোট উদ্যোক্তাদের। আপনিও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আপনার ছোট একমালিকানা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। 

শেষ কথাঃ

বন্ধুরা, দেশের অস্থায়ী পরিস্থিতি বেকারদের হাড় হ্রাস করার একমাত্র উপায় হলো নিজের কর্মসংস্থান নিজে তৈরি করা। আপনি যদি আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতন দেশগুলোর দিকে তাকাম তাহলে আপন দেখবেন সেখানে প্রায় সকলেই নিজ উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলেছে। 

তাই দেশে বসে কোনো কোম্পানি জন্য কাজ করার চিন্তা ধারা বদলিয়ে কীভাবে নিজেকে কম সময়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে গড়তে পারবেন তার চিন্তাধারা রাখুন। 

One thought on “0

Leave a Reply

Your email address will not be published.