স্মার্টফোন ছাড়া কেমন হবে পৃথিবীতে ১ দিন?

স্মার্টফোন ছাড়া কেমন হবে পৃথিবীতে ১ দিন?

আচ্ছা, কখনো যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যম্যে পরিস্থিতিতে পুরো পৃথিবী থেকে সকল মোবাইল ফোন এক দিনের জন্য গায়েব হয়ে যাবে? তখন আপনি আমাদের আসে-পাশে কি হবে বলে ভাবতে পারেন? 

যদি ভেবে থাকেন যে এতে আবার বড়ো কি হতে পারে? তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 

ইন্টারনেট আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিবে ইন্টারনেট থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো মোবাইল। বিশ্বাস হয়না? হবেই বা কীভাবে, একটি ছাড়া অন্যটি অচল। তবে আসলে,  ইন্টারনেট ছাড়া কন্তু মোবাইলের গুরুত্ব কমে যায় না।

অনেকেই জানে না যে ইন্টারনেট একটি নেশার মতন। এই নেশাকে আনাদের কাছে পৌছানো হয় মোবাইলের মাধ্যমে। যদিও ইন্টারনেট কিন্তু কোনো নেশাযুক্ত কিছু না। এটি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন। তবে এই দৈনন্দিন প্রয়োজন যখন নেশায় পরিণিত হয় তখন আর কিছু করার থাকে না।

সিগারেটের ধোয়ার মতন অধিক ইন্টারনেট ও মোবাইলের ব্যবহার আপনাকে মানসিক প্রশান্তি তো দিবে না, বরং আপনার ভিতরটা খালি করে ফেলবে। তবে নেশার মতন হলেও মোবাইলের প্রয়োজন বর্তমানে আপনার ছোট থেকে ছোট কাজেও জড়িয়ে আছে।

জানতে চান ২৪ ঘন্টা বা এক দিন মোবাইল ছাড়া কেমন কাটবে?

সারাদিনের কাজে সমস্যা

২৪ ঘন্টা বা একদিন মোবাইল ছাড়া থাকা বর্তমানে শহরের মানুষদের জন্য প্রায় অসম্ভব। কেননা, আজকাল আমাদের প্রায় সকল কাজের সাথেই স্মার্টফোন কোনো না কোনো ভাবে সম্পর্কিত। 

 ব্যস্ত সময়ে যদি আমাদের হাতে স্মার্টফোন না থাকে তাহলে আমরা যেনো একটি চলন্ত রোবটে পরিণত হবো। এতটাই প্রভাব সৃষ্টি করেছে একটি মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের উপর। 

১ ঘন্টা যেনো ১ দিনের মতো মনে হবে

সবাই স্মার্টফোন ছাড়া থাকতে পারবে না। অনেকের কাছে কিছু মুহুর্ত যেনো অনেক বড়ো একটা সময় মনে হবে। কারও কাছে আবার এক-এক ঘন্টা এক-এক দিনের সমান মনে হবে।

এমনটা হওয়ার মুল কারণ হলোঃ স্মার্টফোন দিয়ে বর্তমানে আমরা আমাদের মনকে মনোরঞ্জন করে থাকি। তাছাড়া, স্মার্টফোন হলো আমাদের সময় অতিক্রম করার একটি বিশেষ মাধ্যম। তাই হটাৎ করেই যদি আমাদের জীবনে স্মার্টফোন না থাকে, তবে আমাদের মন অধৈর্য হয়ে উঠবে। 

সিম কোম্পানির শত-কোটি টাকার লোকসান হবে

সিম কোম্পানিরা স্মার্টফোন ছাড়া তাদের ব্যবসা চালাতে পারবে না। স্মার্টফোন আছে বলেই বর্তমানে সিম কোম্পানিগুলো শত-শত কোটি টাকার লাভ করছে প্রতিদিন। তবে যখন স্মার্টফোন ১ দিনের জম্য থাকবে না তখন পৃথিবীর সকল সিম কোম্পানিগুলো অচল হয়ে পরবে।

তাদের নেটওয়ার্ক চালানোর মত কেউ থাকবে না। ফলে তাদের দৈনিক যেই ব্যায় হবে তার তুলনায় আয়ের হার হবে ০%। সুতরাং, তাদের ১ দিনের আয় তাদের ব্যায়ের বিপরীতে এক টাকাউ হবে না। এতে করে তাদের ব্যবসা ১ দিনের লোকসান মালিকগনের নিজ পকেট থেকে কভার করতে হবে।

কেনা-কাটা বেড়ে যাবে

মোবাইল না থাকায় সকলের মাঝে একটা অধৈর্য্যের সৃষ্টি হবে। কেউ ঘরে বসে থাকতে পারবে না। সারাদিন ঘরে বসে পার করাটা অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হবে। এতে করে অনেকেই সময় অতিক্রম করার অন্যান্য মাধ্যমের দিক ঝুকবে। 

অনেকেই ঘর থেকে বাহিরে খেলতে যাবে, কেউ ফেমিলির সাথে বাহিরে খেতে যাবে, কেউ বা ঘুরতে যাবে। এভাবে মোবাইল ছাড়া ১ দিন অন্যান্য ব্যবসায়গুলোর জন্য অনেক লাভজনক প্রমাণিত হবে।

তবে কিছু ব্যবসায়গুলো যেমন লাভের মুখ দেখবে, ঠিক তেমনি আবার কিছু ব্যবসায়গুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন মোবাইল শপ, গেমিং কোম্পানি, এ্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, গুগল, ইউটিউব অ্যামাজন এর মতন বড়ো বড়ো কোম্পানিগুলোও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সন্ত্রাস-বাদ বৃদ্ধি ও যুদ্ধ শুরু হতে পারে

সারা বিশ্বে হৈ-হল্লা তৈরি হবে। এমনকি এতে করে ইমার্জেন্সি শাট-ডাউন / লক-ডাওন ও দেওয়া হতে পারে। আর এর মুল কারণ হবে, বাড়তি সন্ত্রাস-বাদ এবং অনৈতিক কার্যকলাপ।

মোবাইল ফোন মা থাকায় কেউ কাউকে হত্যা করে পালিয়ে গেলেও পুলিশের কানে কোনো খবর পৌছাবে না। চুরি-ডাকাতির মতন বড়ো-বড়ো সমস্যা দিয়ে ভরে যাবে আমাদের চারপাশ। হ্যাকিং থেকে শুরু করে বড়ো-বড়ো ইন্টারনেশনাল ক্রাইম করা হবে। এতে করে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি তো ঘটবেই এর পাশাল আবার নিউক্লিয়ার যুদ্ধ-ও ঘটতে পারে। যেহেতু মোবাইল ফোন থাকবে না, এতে করে এক দেশের উপর অন্য দেশ হামলা চালালে তা অন্য দেশের জানতে সময় লাগবে। ততক্ষণে বিপরীত দেশ নিউক্লিয়ার বোমা ছেড়েও দিবে।

এটা আবার কীভাবে সম্ভব তাই ভাবছেন?  আসলে প্রতিটি দেশেই অন্যান্য দেশের খুফিয়া এজেন্টস / যাসুস ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। এদের মুল কাজ হলো ইমার্জেন্সি ইনফরমেশন ক্র‍্যাক করে তা নিজ দেশে লিক করে দেওয়া। তবে মোবাইল ফোন না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিক করতে সময় লাগবে। তবে নিউক্লিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা লাখে ১ পার্সেন্ট। তবে ভাবুন, ১ দিনের জন্য মোবাইল না থাকলে এতো বড়ো একটা ঘটনা ঘটতে পারে।

১০০% ইন্টারনেট ব্যবহার করা হবে কম্পিউটার থেকে

এটা হয়তো অনেকেই জানেন যে বর্তমানে ৬০% থেকেও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় মোবাইল থেকে। ইন্টারনেট নির্ভর প্রায় সকল কাজের জন্য ই মোবাইল ফোন ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে মোবাইল না থাকলে এমনটা আর হবে না।

যেহেতু ৬০% ও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার হয় মোবাইল থেকে সেহেতু কম্পিউটার দ্বারা ১০০% ইন্টারনেট ব্যবহার করা হবে। তবে এতে করে যে ইন্টারনেট ইউজারস এর সংখ্যা অনেক হ্রাস পাবে তা অপরিবর্তিত। কেননা, মোবাইল ফোনের মতো কম্পিউটার সকলের ঘরে ঘরে এখনো যায়নি।

তবে মোবাইল ফোন যদি আজীবনের জন্য পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, তাহলে তার স্থান কম্পিউটার দ্বারা পরিবর্তন করা হবে। অর্থাৎ, তখন প্রায় সব মানুষই ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার ক্রয় করবে 

ব্লগার কীংবা অনলাইনে কর্মসংস্থান এমন ব্যাক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্লগার, ইউটিউবার, ফ্রীল্যান্সার, ইত্যাদি যারা রয়েছেন তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেহেতু এসকল কাজের ক্ষেত্রে ইনকামের ৬০%এর অধিক ভাগই নির্ভর করে মোবাইল ব্যবহারকারীদের উপর সেহেতু একদিন মোবাইল না থাকলে তাদের ইনকাম একদিনের জন্য সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে পরবে।

পরিশেষে

পরিশেষে এক দিনের জন্যেও যদি মোবাইল গায়েব হয়ে পরে তাহলে শুধু আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হতে হবে তা না, বরং এর পাশাপাশি এমন সব পরিস্থিতি তৈরি হবে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন নীতির বিপরিত।

মোবাইল বোর্তমানে শুধু মানবজাতির এক অবিশ্বাস্য আবৃষ্কার নয় বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি থেকে শুরু করে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যন্ত স্মার্টফোনের উপর নির্ভরশীল। 

এতে করে বোঝা যায় যে আমাদের জীবনের সাথে স্নার্টফোন এমনভাবেই জড়িয়ে আছে যেভাবে আমাদের শরীরের অঙ্গ আমাদের দেহের সাথে।

One thought on “0

Leave a Reply

Your email address will not be published.